জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম শুধু একটি নাম নয়, একটি প্রেরণা, একটি প্রতিবাদী চেতনা, একটি ন্যায়ভিত্তিক দর্শন। সাহিত্যের প্রতিটি শাখায়—কবিতা, গান, প্রবন্ধ কিংবা উপন্যাস—তিনি রেখে গেছেন বিদ্রোহ, প্রেম ও মানবিকতার অম্লান চিহ্ন। তাঁর চেতনা আমাদের জাতিসত্তা, মুক্তি ও মনন-জগতে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
এমন এক সময়ে, যখন সমাজে অসহিষ্ণুতা ও বিভাজন প্রবণতা ক্রমেই দৃশ্যমান, তখন নজরুলের “মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান” — এই উচ্চারণ আমাদের নৈতিক দিকনির্দেশনা হতে পারে। আর সেই কারণেই প্রতিবছর নজরুলের জন্মবার্ষিকীতে ‘নজরুল পুরস্কার’ প্রদানের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।

চলতি বছরের পুরস্কারপ্রাপ্ত চারজন গুণী ব্যক্তি—শিল্পী শাহীন সামাদ, গবেষক ড. আবুল কালাম আজাদ, প্রশিক্ষক সালমা বেগম ও গবেষক হাফিজুর রহমান—নজরুল চর্চা, প্রচার ও সংরক্ষণের যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। এই সম্মাননা তাঁদের কাজের প্রতি জাতীয় স্বীকৃতি তো বটেই, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণাও বয়ে আনবে।
তবে শুধু পুরস্কার দিলেই নজরুল চেতনার পূর্ণতা আসে না। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় নজরুল-চিন্তা আরো বিস্তৃতভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। গবেষণায় দিতে হবে প্রণোদনা। নজরুল সঙ্গীতের সংরক্ষণ, সঠিক সুর ও রচনার প্রচারে নিতে হবে টেকসই উদ্যোগ।
আজ নজরুল চেতনার যে আলো প্রজ্বলিত হয়েছে, তা যেন সাময়িক প্রদর্শন না হয়ে ওঠে—বরং হোক তা আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নবজাগরণের আলোকবর্তিকা।
নজরুলকে জানি, কিন্তু তাঁর মতো ভাবতে শিখেছি কি? এই প্রশ্নের উত্তরেই নিহিত ভবিষ্যতের পথরেখা।